ভোটার আইডি কার্ড চেক কিভাবে করবেন একনজরে দেখে নিন

ভোটার আইডি কার্ড ( জাতীয় পরিচয়পত্র ) বা NID কার্ড হল একটি বাধ্যতামূলক পরিচয় পত্র যা প্রত্যেক বাংলাদেশী নাগরিককে ১৮ বছর বয়সে ইস্যু করা হয়। এনআইডি হল বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতোই একটি সরকারী জারি করা ফটো আইডি, যা একটি বায়োমেট্রিক, মাইক্রোচিপ এমবেডেড, স্মার্ট পরিচয়পত্র। বাংলাদেশে একাধিক প্রয়োজনীয় পাবলিক পরিষেবার জন্য, যেমন ইউটিলিটি সংযোগ পাওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিষেবা যেমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য NID প্রয়োজন। ভোটার আইডি কার্ড চেক কিভাবে করবেন একনজরে দেখে নিন

 

 প্রাথমিকভাবে, কাগজ ভিত্তিক স্তরিত ভোটার আইডি কার্ড কার্ড ২০০৬ সাল থেকে ইস্যু করা হয়েছিল। তারপর, কাগজ ভিত্তিক স্তরিত ভোটার আইডি কার্ড কার্ডগুলি ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের জন্য বায়োমেট্রিক এবং মাইক্রোচিপ এমবেডেড স্মার্ট ভোটার আইডি  কার্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। কার্ডধারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাল ও জালিয়াতি রোধ করার জন্য এটি করা হয়েছিল

 

 বাংলাদেশে দুই ধরনের ভোটার আইডি কার্ড পাওয়া যায় অ্যানালগ ও ডিজিটাল। এনালগ ভোটার আইডি কার্ড এ শুধুমাত্র ব্যাক্তি সম্পর্কে কিছু লেখা থাকে কিন্তু ডিজিটাল ভোটার আইডি কার্ড এ একটি ইলেকট্রনিক চিপ বসানো থাকে যার সাহায্যে ব্যাক্তির সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব।

ভোটার আইডি কার্ড চেক

ভোটার আইডি কার্ড চেক করার নিয়ম

 

ভোটার আইডি কার্ড চেক করার জন্য আপনি প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর ওয়েবসাইটে যাবেন অথবা সরাসরি ভোটার আইডি কার্ড এর ওয়েবসাইটে যাবেন। কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড চেক করা যায়:

 

প্রথম পদ্ধতি

 

১. প্রথমে http://www.lms.gov.bd/ এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

 

২. সেখানে আপনাকে প্রথমে আপনার বিভাগ সিলেক্ট করুন_জেলা বা অফিস_সিলেক্ট করুন_লাইসেন্স এর ধরন জাতীয় পরিচয় পত্র সিলেক্ট করুন_এবার আপনার মোবাইল নম্বর টি লিখুন। এবং পরবর্তী ধাপে ক্লিক করুন।

 

৩. একটি ফ্রম আসবে সম্পূর্ণ পূরণ করতে হবে প্রথম ঘরে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বরটি লিখুন। দ্বিতীয় ঘরে আপনার জন্ম তারিখ সালসহ লেখুন।

 

৪. এখন দেখতে পাবেন জাতীয় পরিচয় পত্র ঘরে যাচাই অপশন দেখা যাচ্ছে সেখানে ক্লিক করুন। একটু অপেক্ষা করলেই সম্পূর্ণ তথ্য দেখতে পাবেন।

 

দ্বিতীয় পদ্ধতি

 

১. প্রথমে আপনার মোবাইলের ডায়াল অপশনে যান।

 

২. ডায়াল করুন *১৬১০০# আবার কল করুন।

 

৩. এবার ২ নম্বরটি লিখুন। (NO)

 

৪. আবার ১ নম্বরটি লিখুন। (Verify bio data)

 

৫. আবারও ১ নম্বরটি লিখুন। (By national id card)

 

৬. এবার আপনার ভোটার আইডি কার্ড নম্বরটি লিখুন।

 

৭. এবার আপনার জন্ম তারিখটি লিখুন।

 

৮. এখন আপনার নাম এবং জন্মতারিখ দেখতে পারবেন।

 

ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম

ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম

 

ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য আপনাকে যেসব কাজ করতে হবে। ভোটার আইডি কার্ড আপনি দুই ভাবে ডাউনলোড করতে পারবেন অ্যাপ থেকে এবং ওয়েবসাইট থেকে।

 

কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড অ্যাপ থেকে ডাউনলোড করা যায়:

 

১. প্রথমে গুগলে প্লে স্টোর থেকে NID Wallet অ্যাপ টি ডাউনলোড করুন।

 

২. প্রথমে আপনি একটি একাউন্ট করে নিন অর্থাৎ রেজিষ্টার অপশন এ ক্লিক করুন। যদি আপনার আগে থেকে একাউন্ট থাকে তাহলে লগইন করে নিন।

 

৩. এবার একাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে “টেপ টু ওপেন nid wallet” এ ক্লিক করুন। এবং অ্যাপ সিলেক্ট করুন।

 

৪. আপনার ফেস মনে মুখটি স্ক্যান করুন।

 

৫. ফেস স্ক্যান হয়ে গেলে একটু নিচের দিকে আসুন দেখতে পাবেন সেখানে ডাউনলোড অপশন সেখান থেকে আপনার ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করুন।

 

ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন কপি ডাউনলোড

 

ওয়েবসাইট থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করুন:

 

১. প্রথমে https://www.nidw.gov.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

 

২.  রেজিষ্টার করুন অপশনে ক্লিক করুন।

 

৩. প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করুন। এবং পরবর্তী ধাপে যান।

 

৪. আরেকটি ফরম পাবেন সেটি পূরণ করে সাবমিট করুন।

 

৫. দেখতে পাবেন আপনার ভোটার আইডি কার্ড এর পাশে ডাউনলোড অপশন সেখান থেকে nid কার্ড ডাউনলোড করুন।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার উপায়

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার উপায়

 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করবেন যেভাবে_

 

১. প্রথমে https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/ এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

 

২. একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্টার অপশন ক্লিক করুন।

 

৩. রেজিষ্টার হয়ে গেলে নিচে দিকে দেখতে  পাবেন NiD wallet সেখানে ক্লিক করুন। অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।

 

৪. ডাউনলোড হয়ে গেলে ওপেন করুন আপনার ফেস স্ক্যান করে নিন।

 

৫. আবার সেখানে আপনার ভোটার আইডি কার্ড দেখতে পাবেন।

 

৬. উপরের দিকে দেখুন ” এডিট  প্রোফাইল” সেখানে ক্লিক করুন। বহাল রাখুন।

 

৭. এখন আপনি যেটি পরিবর্তন করতে চান সেটি সিলেক্ট করে সঠিক লেখুন।

 

৮. সংশোধন করা হয় গেলে পরবর্তী ধাপে ক্লিক করুন।

 

৯. এবার আপনাকে টাকা ডিপোজিট করতে হবে। টাকা ডিপোজিট করতে। বিকাশ অ্যাপ এ জন।

 

১০. পে বিল এ গিয়ে nid service এ ক্লিক করুন।

 

১১. NiD info correction এ ক্লিক করুন।

 

১২. এবার আপনার ভোটার আইডি কার্ড নম্বরটি লিখুন।

 

১৩. সবশেষে পে বিল করে দিন।

 

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম

 

নতুন ভোটার আইডি কার্ড যেভাবে করবেন। আপনাকে প্রথমে ভোটার আইডি কার্ড এর জন্য আবেদন করতে হবে। ভোটার আইডি কার্ড এর জন্য আবেদন করার নিয়ম:

 

১. প্রথমে এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন https://www.nidw.gov.bd/

 

২. লগইন বা একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্টার করুন।

 

৩. নিবন্ধন অপশন এ ক্লিক করুন দেখতে পাবেন নতুন ভোটার এর জন্য আবেদন করুন। সেখানে ক্লিক করুন।

 

৪. একটি ফরম আসবে যা খুবই সাবধানে পূরণ করুন।

 

৫. এরপর সাবমিট করলে দেখবেন আপনার ফরম এর কাছে ডাউনলোড অপশন সেখান থেকে ডাউনলোড করুন।

 

৬. সবশেষে ফরমটি আপনার নিকটস্থ বা আপনার এলাকার নির্বাচন অফিসে জমা দিন।

 

৭. কিছু দিন পর আপনাকে তারা ছবি  নেওয়ার জন্য ডাকবে।

 

ভোটার আইডি কার্ড এর সুবিধা

 

বাংলাদেশী স্মার্ট ভোটার আইডি  কার্ডধারী নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত সুবিধা এবং পরিষেবাগুলি উপলব্ধ:

 

  • নাগরিকদের অধিকার এবং সুবিধা
  • জাতীয় পরিচয়
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স
  • পাসপোর্ট
  • সম্পত্তি জমি ক্রয়-বিক্রয়
  • বাংলাদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন
  • অ্যাকাউন্ট চেক
  • ব্যাংক ঋণ সহায়তা
  • সরকারি পেনশন
  • সরকারি আর্থিক সাহায্য বা সহায়তা
  • BIN সুবিধা
  • শেয়ার-বিও অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণকারী
  • ব্যবসা ট্রেড লাইসেন্স
  • যানবাহন নিবন্ধন
  • বীমা প্রকল্প
  • বিবাহ নিবন্ধন
  • ই-পাসপোর্ট
  • ই-গভর্নেন্স
  • গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ
  • মোবাইল সংযোগ
  • স্বাস্থ্য কার্ড
  • ই-নগদ
  • ব্যাংক লেনদেন
  • শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুবিধা

স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড কিভাবে পাবেন

 

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন শাখা (NIDW) অক্টোবর ২০১৬ সালে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রবর্তন করে।  এই কার্ডটিতে একটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট এম্বেড করা আছে এবং এটি একটি “চিপ-ভিত্তিক কার্ড” নামেও পরিচিত। বাংলাদেশে “স্মার্ট এনআইডি কার্ড”। এটি একটি পকেট আকারের প্লাস্টিকের কার্ড, প্রায় একটি ক্রেডিট কার্ডের আকার, এমবেডেড ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট সমস্ত ডেটা সঞ্চয় করে।

 

 স্মার্ট কার্ডের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পঁচিশটি আন্তর্জাতিক সনদ ও মান নিশ্চিত করা হয়েছে। যেহেতু এগুলো মেশিন রিডেবল কার্ড, তাই স্মার্ট কার্ডে জালিয়াতি রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড পেতে আপনাকে কিছু করতে হবে আপনার এলাকার নির্বাচন অফিসে খুজ রাখুন যখন সেখানে স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড যাবে সেখান থেকে সংগ্রহ করে নিন।

 

ভোটার আইডি কার্ড নিবন্ধনের জন্য কি কি প্রয়োজন

 

যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী, কিন্তু এখনও ভোটার হিসাবে নিবন্ধিত হননি, তারা নিবন্ধন করতে পারেন। নিবন্ধনের সময় নিম্নোক্ত ফাইল গুলো  প্রয়োজন:

 

  • এসএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট
  • জন্ম সনদ
  • পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বা টিআইএন শংসাপত্র (যদি পাওয়া যায়)
  • ইউটিলিটি বিলের অনুলিপি, বাড়ি ভাড়ার রসিদ, বা হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ (ঠিকানার প্রমাণ হিসাবে)
  • নাগরিকত্ব শংসাপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)
  • পিতা, মা, স্বামী বা স্ত্রীর NID এর সত্যায়িত ফটোকপি।

 

ছবি এবং বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহের জন্য ইসি প্রাঙ্গনে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। ভোটার আইডি কার্ড চেক

GO TO HOME PAGE 

  • Leave a Comment